ধোঁকা দিচ্ছো নাকি বোকা হচ্ছো?

ছোট বেলা মায়ের কোলে শুয়ে অথবা বাবার মুখ থেকে “একটা বাঘ আর রাখাল ছেলের গল্প” আমরা সবাই শুনেছি। মনে আছে নিশ্চয়? মনে আছে নিশ্চয় কি করে রাখাল ছেলে সবাই কে “বাঘ এসেছে-বাঘ এসেছে” বলে ধোঁকা দিত। লোকজন তার চিৎকার শুনে যখন দৈাঁড়ে আসত তাকে বাঁচাতে তখন দেখা যেত আসলে এমন কিছুই না, এসব করে ছেলেটি সবাইকে ধোঁকা দিত এবং তা করে সে খুব মজা পেত, কিন্তু সত্যি করেই যেদিন বাঘ এলো আর রাখাল ছেলেটি প্রাণ ভয়ে চিৎকারকরতে লাগল তখন কিন্তু তাকে রক্ষা করতে কেউ এলোনা।

আচ্ছা এই ছোট্ট গল্পটি আমাদের বাবা-মাও কিন্তু তাদের বাবা-মার মুখে শুনেছে ছোট বেলায়। কিন্তু তারা তাদের সারা জীবনের অভিজ্ঞতার গল্প না শুনিয়ে সেই একই গল্প কেন শুনাতো? কি আছে গল্পের মূল মন্ত্রে? সেই তো একই হিসেব; কাউকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে মজা নিওনা। তাতে সময় এসে তোমার টুঁটি টিপে ধরবে তখন ছাড়া পাবে না।

আচ্ছা পৃথিবীতে এটাই কি চরম শিক্ষা যে ধোকা খেয়ে মানুষ নিরবে সয়ে যায়?আর অন্যকে ধোকা দিয়ে নিজে আনন্দিত হয়? আচ্ছা ধোকা মানেতো প্রতারণা, তাইনা? কিন্তু যদি বলি আমি ধোকা খেয়েছি তাহলে এর মধ্যে একটা দুষ্টুমি লুকিয়ে থাকে কিন্তু যদি বলি আমি প্রতারিত হয়েছি তাহলে এটাকে অনেক নির্মম মনে হয়।

কিন্তু সত্য হচ্ছে প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত এই নির্মম কাজটিই আমরা খুব দক্ষতার সাথে করে আসছি এবং এই কাজের জন্য নিজেই নিজেকে বাহবা দিচ্ছি। নিজের সাথে নিজে এভাবে ছোট-ছোট প্রতারণা করতে করতে এক সময় প্রতারণাটাই আমাদের জীবনে সত্য হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা একে অন্যের সাথে প্রতারণা করি, অন্যজন করে আরও অন্যজনের সাথে, এভাবেই এক জন থেকে আর এক জনে ছড়াতে ছড়াতে প্রতারণা আমাদের সমাজে ছোঁয়াচে ব্যধির মতো ছড়িয়ে পড়ে।প্রতারণার কারণে ঘর ভাঙ্গছে, মন ভাঙ্গছে, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সমাজ ব্যবস্থা, দেশ ব্যবস্থা তথা মানবিক মূল্যবোধ সব যেন ক্ষয় রোগে ধরেছে, ক্ষয় পোকার মতো আমাদের বিশ্বাসের শক্তিকে কুঁরে-কুঁরে খাচ্ছে।

তবে কি আমরা আবারও ফিরে গেছি সেই ভয়াবহ অন্ধকার অরন্যে? ফিরে কি গেছি সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতে? আমাদের কি কোনঅতীত ছিলনা? আমাদের কি কোন পূর্ব-পুরুষ ছিল না? আমরা কি উপেক্ষা করছিনা লাখো শহীদের রক্তের স্বাধীনতার মূল্যবোধকে?

আসুন একবার প্রশ্ন করি নিজেকে, আসুন এবার তাকিয়ে দেখি নিজের দিকে, কেন এই ধোকাবাজি? কেন এই প্রতারনা? কেন ঠকাচ্ছি অন্যকে? কেন ধ্বংসের এই হলি খেলা?

আসুন একটু ভাবুন, একটা সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নিজেকে পরিবর্তন করারজন্য। জাগরন শুরু হয়েছে, পরিবর্তন আসছে, আপনি কেন সুন্দরে বেড়ে উঠবেন না? আপনি উঠে আসুন, আপনাকে দেখে আরও দশ জন উঠে আসবে। যে কোন প্রতারনার চেয়ে আমাদের শক্তি অনেক বেশি। আমরাই পারি আলো জ্বালাতে, আমরাই পারি আলোয় ভরে তুলতে, কেননা পৃথিবীর সমস্ত কিছুর উপর কর্তৃত্ত্ব করতেই আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আসুন আমরা তাঁর রব শুনার চেষ্টা করি, আমরা তাঁর নির্দেশিত পথে হাঁটার অভ্যেস করি।

 

Follow me

You may also like...